স্টাফ রিপোর্টার
রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাচলে অসহায় এক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজ সেবক আনছর আলী। উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের হারারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহীন মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম মিয়া এতিম জীবন যাপন করছিলেন। সে তার নানীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে ঘরেই জীবন যাপন করছিলেন। তার একমাত্র সম্বল অটো রিকশাটি ধুমড়ে মুচড়ে যায়। এ খবর পেয়ে চিকিৎসা সেবা সহ ওই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজসেবক আনছর আলী। তিনি করোনাকাল থেকেই মানবিক মানব হিসেবে পরিচিতি পান। রূপগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর পাশে থেকে বরাবরই তিনি সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেন।
ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের পাশে থেকে ঈদ উদযাপনসহ সকল ধর্মীয় উৎসরে অংশগ্রহণ করেন। চলতি রোজার মাস জুড়ে অসহায়, গরীব ও সাধারণ মানুষের পাশে থেকে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ বস্ত্র, নগদ অর্থ, ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। দফায় দফায় এসব খাদ্য সামগ্রী পেয়ে ইউনিয়নবাসী বেশ উল্লাসিত।
ঈদের আগের দিন অর্থাৎ রোববার (৩০ মার্চ) সকালে হারারবাড়ি এলাকার দুর্ঘটনায় আহত সিয়াম মিয়াকে একটি নতুন অটো রিকশা কিনে দিয়েছেন মানবিক মানুষ খ্যাত আনছর আলী। তিনি রূপগঞ্জ ইউনিয়নের কয়েকটি এতিমখানার খাদ্য বিতরণ করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়াও তিনি অসহায় পরিবারের মেয়ে বিয়ে সহ বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে থাকেন। এর আগে গত শনিবার পূর্বাচলে দুস্থ্য ও গরীব ৩৫০জন পরিবারের মাঝে ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পূর্বাচল দুঃস্থ সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে দড়িগুতিয়াব এলাকায় এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল পোলার চাল, ডাল, তেল, সেমাই, আলু, পেয়াজ, দুধ, চিনি। সমাজ সেবক আনছর আলীর এসব ত্রাণ সামগ্রী পেয়ে উপস্থিত অসহায় মানুষেরা আবেগ আপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে ওঠে এবং আনছর আলীর জন্য দোয়া কামনা করেন।
পূর্বাচলের ৪নং সেক্টরের দড়িগুতিয়াব বাজার সংলগ্ন পূর্বাচল দুঃস্থ সমাজ কল্যান সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্লাবের সকল সদস্যের উপস্থিতিতে সমাজ সেবক আনছর আলীর সার্বিক সহায়তায় ঈদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় পূর্বাচল ৪নং সেক্টরের ৩৫০ জন অসহায় মানুষ উপস্থিত হয়ে ওইসব খাদ্য সামগ্রী নিয়ে যান। খাদ্য সামগ্রী পেয়ে তহুরা বেগম বলেন, আল্লাহপাক যেনো আনছর আলীকে নেক হায়াত দেন। তিনি আমাদের সব সময় খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ দিয়ে সহায়তা করে থাকেন। তিনি বেঁচে থাকলে পূর্বাচলের মানুষজন বেঁচে থাকবে। আমরা তার জন্য সব সময় দোয়া করি। এই লোকটি ছাড়া এবার আর কোনো ব্যক্তি অসহায় মানুষের কোনো প্রকার সহায়তা দেননি। আনছর আলী এবার ঈদের আগে থেকেই ৩ দফায় সহায়তা দিয়েছেন।
সমাজ সেবক আনছর আলী বলেন, আমি আমার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে ঈদ পালন করতেই সামান্য উপহার দিয়ে সহায়তা দিচ্ছি। অসহায় মানুষের পাশে থাকতে আমার ভালো লাগে। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকতে চাই।
একটি নতুন অটোরিকশা পেয়ে সিয়াম মিয়া বলেন, আমার সৃষ্টিকর্তার আল্লাহ তায়ালার পর আর্শিবাদ হয়ে এসেছেন আনছর আলী। তিনি আমার জীবনকে সুন্দর ও সুখময় করে গড়ে তুলেছেন। আমি অন্তর থেকে আনছর আলী ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করি।

