আড়াইহাজার প্রতিনিধি
আড়াইহাজারে শ্যালকের স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বোন জামাই শামীমকে (৩৮) আটক করেছে আড়াইহাজার থানা পুলিশ। উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের সিংহদী গ্রামে রবিবার সকালে এই ঘটনা ঘটলেও মঙ্গলবার বিকালে ধর্ষিতার মা বাদি হয়ে ধর্ষক শামীমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। আড়াইহাজার থানার পুলিশ সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিবের ছেলে ধর্ষক শামীমকে আটক করেছে । মামলায় শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ আর বাকী ৩ জন বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ধর্ষিতার মা উল্লেখ করেন, ঘটনার ৬ মাস আগে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের সিংহদী এলাকার কাউছার মিয়ার সাথে তার মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের ২ মাস পর থেকেই তার মেয়ের সাথে জামাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া হতো। ঝগড়ায় কাউছার মিয়া প্রায়ই তার স্ত্রীকে মারধর করতো। যার ফলে কাউছারের বোন জামাই ধর্ষক শামীম তাদের ঝগড়া মিটিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েটির উপরে খারাপ নজর দেয় এবং সুযোগ পাইলে কু—প্রস্তাব দিত। এসব ঘটনা কাউছার ও তার বাবা—মাকে জানাইলে তারা উল্টো আমার মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করতো। রবিবার সকালে বাড়ির সবাই জমিতে কাজ করতে চলে গেলে ধর্ষক শামিম ঘরে ঢুকে মেয়েটির অনিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্যে হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনা আমি ও মেয়ের বাবা মেয়ের শুশুর বাড়ির সকলকে জানালে আমাদেরকে গালিগালাজসহ মারধর শুরু করে। পরে আমাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হলে তারা মেয়েকে তালাক দেওয়াসহ খুন ও জখমের হুমকি প্রদান করে। মেয়েকে আড়াইহাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এই ঘটনায় ধর্ষিতাকে মারধরের অভিযোগে একই মামলায় তার স্বামী কাউছার মিয়া (২৭), শ্বশুর হারুন (৫৫) ও শ্বাশুড়ি হাসনা হেনা (৪৫)কে আসামী করা হয়েছে।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন বলেন, মামলার প্রধান আসামীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
