স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশমার (ভূমি) তারিকুল আলম ও সহকারী কমিশনার (পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেল) ওবায়দুর রহমান শাহেলের নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গাউছিয়া গোল চত্বর থেকে গোলাকান্দাইল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের উভয়পাশে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিনে অভিযানের পর রাতেই বসে ভাসমান দোকান। এলাকাবাসী বলছেন, রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। রাতেই আবার প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অন্তত ৮ শতাধিক দোকানপাট বসিয়ে অবাদে ব্যবসা করছে। অপরদিকে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা বাইপাস সড়কে যানজট শুরু হয়েছে। রোজা ও ঈদে ঘরে ফেরা মানুষেরা চরম দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
অভিযানে অবৈধভাবে পার্কিং করা বাস, প্রাইভেটকার, শরবতের দোকান, ভাসমান কসমেটিকস, পোশাক, জুতার দোকান ও কাঁচাবাজারসহ সকল প্রকার দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় ফুটপাতে বসা চৌকি, ভ্যানগাড়িসহ সকল প্রকার স্থাপনা জব্দ করে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিকুল আলম বলেন, যানজট নিরসন এবং ফুটপাতে পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে আরো উপস্থিত ছিলেন গ-সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত হোসেন, ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমানসহ উপজেলা পরিষদের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তবে অভিযানের পর দিন শুক্রবার থেকেই ভেস্তে গেছে সব পরিশ্রম। মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হলে প্রতিদিন অন্তত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের লোকজন ও কমপক্ষে সড়কের উভয় পাশে ২জন করে ৪জন পুলিশ রাখতে হবে বলে এলাকাবাসী জানান। এসব দখলদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেই এলাকায় মাদক সেবনসহ সব ধরণের অপরাধ কর্মকান্ড চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে অবশ্যই ভুলতা, গাউছিয়া ও গোলাকান্দাইল এলাকাকে হকারমুক্ত রাখতে হবে।
