Thursday, January 22

স্টাফ রিপোর্টার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করার জেরে উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে ওই দুই কর্মীকে ছাড়িয়ে নিতে শত শত বিএনপির নেতাকর্মীরা থানার ভেতরে প্রবেশ করে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে থানার ভেতরে অবস্থান করা পুলিশ সদস্যরা। এসময় কর্তব্যরত পুুলিশ সদস্যদের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাবকর্মীরা। মঙ্গলবার দুপুর একটা দিকে উপজেলা সদরে গণগ্রন্থাগারে অবস্থিত অস্থায়ী পুলিশ স্টেশনের এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, গ্রামীর অবকাঠাসোমা রক্ষণাবেক্ষন প্রকল্প (টিআর) আওতায় শিবপুর এলাকায় একটি রাস্তায় মাঠি ভরাটবে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এদের মধ্যে ওই এলাকার বাসিন্দা তাহের আলী রাস্তার পাশাপাশি দুই পাশে সমান জায়গায় মাটি ভরাট করা দাবী জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি আবেদন করেন। এর জের ধরে শুক্রবার দুপুরে রাশেদুল ইসলাম ও তানজিদ মিয়া ও তার সহযোগিরা উপজেলা সদরে তাহের জুতার দোকানে হামলা চলানোর চেষ্টা করে। এতে প্রাণ বাঁচাতে তাহের আলীর ছেলে মোস্তাকিম দৌড়ে আনোয়ার হোসেন অনুর বাড়িতে চলে যায়। সেখানে বাজারের লোকজন রাশেদুল ও তানজিদকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত রাশেদুল ও তানজিদ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের অনুসারী হওয়ায় তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আটকের খবরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শত শত বিএনপির নেতাকর্মী থানায় এসে জড়ো হয়। ওই সময় থানায় ওসি থানায় ছিলো না। এক পর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা থানা ভেতর প্রবেশ করলে হট্টগোল শুরু করে। থানার ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে থানা ভেতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা। খবর পেয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন থানায় এসে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাশেদুল ও তানজিদকে থানায় আটক রাখা হয়েছে।
এ ব্যপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ বলেন, “ আটককৃত রাশেদুল ও তনিজিদ তাদের অনুসারী। তাদেকে অহেতুক পুলিশ আটক করে নিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাখে পুলিশের ভূলবুঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে ভ‚লবুঝাঝির অবসান হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আড়াইহাজার থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে বসে আলোচনা করে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ। ভবিষ্যতে এধরনের উচ্ছশৃঙ্খল আচরণ করবেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশকে। এছাড়াও ভবিষ্যতে এই ধরনের উচ্ছশৃঙ্খল ঘটনা ঘটানোর চেষ্টার করলে নিয়মিত মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

Share.

Comments are closed.

Exit mobile version