Thursday, January 22

স্টাফ রিপোর্টার

রূপগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে গুলি চালানো ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম বাবুকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাবুকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার (১১ জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাবুকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বিষয়টি অনুমোদন করেন। এছাগা ছাত্রদলের সব নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জাহিদুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে রূপগঞ্জের মাঝিপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাবু নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ভুলতা ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন খোকা (২৭) কে ছাড়াতে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে বাবু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ন সম্পাদক বাদল ভুঁইয়ার ছোট ভাই মামুন ভুঁইয়ার মাথায় গুলি করে। ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির হোসেন খোকা মাঝিপাড়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে। আর বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম বাবু মর্তুজাবাদ গ্রামের মঞ্জুর হোসেনের ছেলে ও নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমানের ভাতিজা। তার ক্ষমতার জোরেই রূপগঞ্জে সব ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে বাবু। ঈদুল আযহার ১৫ দিন আগে উপজেলার পোনাবো গ্রামের রাজিব মোল্লাসহ বেশ কয়েকজনকে চাঁদার দাবিতে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। তারা মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামানের সঙ্গে রাজনীতি করতো। ঈদের পর ক্ষোভে রাজিব ও তার পুরো বাহিনী গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির সকল নেতাকর্মী একযোগে মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর শিবিরে যোগ দেন। রূপগঞ্জকে অশান্ত করে তুলেছিল বাবু ও তার সহযোগিরা। রূপগঞ্জের মর্তুজাবাদ, সোনাবো, মাঝিপাড়া, টেকপাড়া, ভায়েলা, মিয়াবাড়ী, পাঁচাইখা, আউখাবো এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। বিশেষ করে জাহিদুল ইসলাম বাবুর নিজ গ্রাম মর্তুজাবাদ দক্ষিণপাড়া এলাকায় ১০-১২জন ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের লোকজন দিয়ে এসব মাদক ব্যবসা করাচ্ছে।
মাঝিপাড়া গ্রামের গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ী মামুন ভুঁইয়াকে হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই মো. বাদল ভুঁইয়া বাদি হয়ে ১৬জনকে নামীয় ও অজ্ঞাত আরো ১২জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা হলো- মর্তুজাবাদ গ্রামের মঞ্জুর হোসেনের ছেলে সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম বাবু, মাঝিপাড়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির হোসেন খোকা, গোলাকান্দাইল গ্রামের নাসু ফকিরের ছেলে রাসেল ফকির, মাঝিপাড়ার টেকপাড়া গ্রামের রতনের ছেলে রোহান, আমলাবো গ্রামের রোমানের ছেলে শাফিন, ছোনাবো গ্রামের আক্কাসের ছেলে আরিফুল, আমলাবো গ্রামের নিক্সন, লাভরাপাড়া গ্রামের তাহের আলীর ছেলে বাদশা, গোলাকান্দাইল পূর্বপাড়া গ্রামের করিম ফকিরের ছেলে লোহান ফকির, ছোনাবো গ্রামের মকবুলের ছেলে ইমরান, মাঝিপাড়া টেকপাড়া গ্রামের ওসমানের ছেলে রাহাত, ভায়েলা মিয়াবাড়ির মোতাহারের ছেলে নিবির, মাছিমপুর গ্রামের সামছুল হকের ছেলে গুই রাকিব, ব্রাহ্মণগাও গ্রামের কালাই মোল্লার ছেলে সবুজ মোল্লা, মাঝিপাড়া গ্রামের মো. গাজীর ছেলে ইয়াছিন। এছাড়াও অজ্ঞাত আরো ১২জন রয়েছে। তারা আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ছেনি, লাঠিসোটা নিয়ে মাঝিপাড়া নয়াবাজার এলাকায় মামুন ভুঁইয়াকে আটক করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলাম বাবু পর পর দুটি গুলি করে। সন্ত্রাসীরা এলোপাতারি পিটিয়ে মৃতভেবে রাস্তায় ফেলে সন্ত্রাসীরা ফাকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে এলাকা ত্যাগ করে। পরে এলাকাবাসী উদ্ধার করে মামুনকে প্রথমে ইউএসবাংলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মামুন ভুঁইয়া মারা যান। বুধবার আসর নামাজের পর মাঝিপাড়া মাদ্রাসা মাঠে জানাযা নামাজ শেষে সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করে। জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, ভুলতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্বাস উদ্দিন ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, সাপ্তাহিক আমাদের রূপগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মো. হানিফ মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান ভুঁইয়া, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রিন্স, ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাকিল আহমেদ নুরু, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রজব আলী ফকির, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ কয়েক হাজার মানুষ।

Share.

Comments are closed.

Exit mobile version